ফেরদৌস জানালেন করোনায় চলচ্চিত্রের দুর্দিনের কথা

জনতার কন্ঠ প্রতিবেদক

ফেরদৌস জানালেন  করোনায় চলচ্চিত্রের দুর্দিনের কথা
ফেরদৌস জানালেন করোনায় চলচ্চিত্রের দুর্দিনের কথা

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলচ্চিত্র ও বিনোদন কর্মীরা বড় ধরনের সমস্যা ও দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।রোববার (২১ জুন) ‘জিডিপিতে স্টার্টআপের অবদান বিষয়ক বাজেট আলোচনা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব) এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।

এফএনএস মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফেরদৌস বলেন, আমাদের এই অঙ্গনের প্রতি আর একটু নজর দেয়া দরকার। আমাদেরকে আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনেক সহায়তা করা হচ্ছে, কিন্তু এটা সাময়িক। আমাদের যে সমস্যা, এ সমস্যা কিন্তু সাময়িক না।

তিনি বলেন, উৎসবগুলো থেকে আমরা চলচ্চিত্রের বড় অর্থ পেয়ে থাকি। বাংলাদেশের দুটো ঈদ কিন্তু আমাদের বড় উৎসব। সে দুটো উৎসব পড়ে যাচ্ছে করানোর মধ্যে। এছাড়া একের পর এক বড় বড়, পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু করে নানা দিবসগুলো পড়ে গেছে। সুতরাং আমাদের যারা প্রডিউসার (প্রযোজক) তারা অনেক টাকা লগ্নি করে রেখেছেন, তারা সবাই একটা দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

দুই বাংলার জনপ্রিয় এই নায়ক বলেন, কিছুদিন হলো শুটিং শুরু হয়েছে। নাটকের স্বল্প পরিসরে শুটিং হচ্ছে। কিন্তু চলচ্চিত্রের যে বিশাল আয়োজন করে শুটিং করা সেটা সম্ভব হচ্ছে না। চলচ্চিত্রের শুটিং যদি করা হয়, সেই সিনেমাগুলো দেখানো হবে কোথায়? গত তিন মাস ধরে সিনেমা হলগুলো বন্ধ। ফলে বড় একটা সমস্যার মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি।

ফেরদৌস বলেন, আমার যে এফএনএস সেখানে গত ছয় মাস ধরে কোনো কাজ হচ্ছে না। কবে থেকে কাজ শুরু করতে পারব তাও জানি না। সুতরাং অভিনেতার পাশাপাশি আমি একটা নতুন পরিচয়ে এসেছি, সেই পরিচয় নিয়ে আমি কত দিন কাজ করতে পারব বা কতদূর এগিয়ে যেতে পারব তা নিয়ে আমি শঙ্কিত।

তিনি বলেন, এই মহামারির মধ্যে আমাদেরকে ঘরে থাকার জন্য মানসিক শক্তি জুগিয়েছে, বিনোদন দিয়েছে সারা বিশ্বের চলচ্চিত্র ও বিনোদন কর্মীরা। সে মানুষগুলো আজকে খুব একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষগুলোর অবস্থা আরও খারাপ।

ফেরদৌস আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় আমাদের পাশে থাকেন। আমাদের অনুদানের ঝুঁকির বাজেট বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের নানান ধরনের সহযোগিতার কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আশাবাদী যে আমরা সবাই মিলে একত্রিত হলে আমরা এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। কারণ চলচ্চিত্রের কোনো বিকল্প নেই; আল্টিমেট বিনোদনটা হচ্ছে চলচ্চিত্র।