মাস্ক ছাড়া মানুষের ঘোরাঘুরি রেড জোনে

জনতার কন্ঠ প্রতিনিধি

মাস্ক ছাড়া মানুষের ঘোরাঘুরি রেড জোনে
মাস্ক ছাড়া মানুষের ঘোরাঘুরি রেড জোনে

 

রাজধানীর ৪৫টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণার ছয় দিন পরও লকডাউন বাস্তবায়নের তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই। কিছু ওয়ার্ডে কেবল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে লকডাউন বাস্তবায়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়ার অপেক্ষায় বসে আছেন সবাই। লকডাউন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, লকডাউনের আগে সুনির্দিষ্টভাবে সীমানা চিহ্নিত করে দিতে হবে। আর এলাকায় যত নিম্ন আয়ের মানুষ আছে, তাদের পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে রেড জোন ঘোষণার পরও ওইসব এলাকায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়েনি। এখনও অনেকে মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

নেই সামাজিক দূরত্বের বালাই। অবশ্য দু-একটা এলাকার কিছু গলিপথ সচেতন এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগেই বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু সরকার ঘোষিত রেড জোন এলাকার সামগ্রিক চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই বাস্তবতায় নিজের বিবেক নিজের পাহারাদার না হলে আমাদের কে মুক্ত করবে? এখনও ভিড়, জটলা। বাজারে, কর্মস্থলে অনেকে মাস্ক পরেন না।

সংক্রমণ গোপন করে চলাফেরা করছেন। রেড জোন হিসেবে ঘোষিত ৪৫টি এলাকার কোনো সুনির্দিষ্ট ম্যাপ গতকাল পর্যন্ত সিটি করপোরেশনকে দিতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অবশ্য

রেড জোন ঘোষণার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকে গত রোববার প্রত্যেক কাউন্সিলরকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে সমন্বয় কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়। এই সিদ্ধান্ত এখনও

পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ঢাকার দুই মেয়র জানিয়েছেন, নকশা দেওয়ার পর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্নিষ্ট এলাকাকে লকডাউনে নিতে পারবেন। কিন্তু কখন কোন এলাকা লকডাউন করা হবে, নকশা দিতে কতদিন লাগবে সেটিও নিশ্চিত নয়। এদিকে প্রতিদিনই সংক্রমণের হার বাড়ছে।

রেড জোন হিসেবে ঘোষিত রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার কাউন্সিলর (৩২ নম্বর ওয়ার্ড) সৈয়দ হাসান নুর ইসলাম সমকালকে বলেন, একটি কমিটি গঠন করেছেন। তবে সীমানাটা ভালো করে চিহ্নিত করে দিতে হবে। এছাড়া লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গেলে জেনেভা ক্যাম্পে ৬০ হাজার দরিদ্র মানুষের খাবার ব্যবস্থা করতে হবে। আরও ১০ হাজার লোক আছে যারা দিন আনে দিন খায়। প্রায় একই কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের (মিরপুর ১৩-১৪ ও ভাসানটেক এলাকা) কাউন্সিলর ও ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডের (সেগুনবাগিচা এলাকা) কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে হোল্ডিং না পেলে লকডাউন করা সম্ভব না। গরিব মানুষের খাবারেরও ব্যবস্থা করতে হবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড (খিলগাঁও এলাকা) কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম সমকালকে বলেন, লকডাউন কার্যকর করতে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন।
রেড জোন হিসেবে ঘোষিত কলাবাগান এলাকায় লকডাউন শুরু না হলেও স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশ আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। মঙ্গলবার একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- সিআর দত্ত রোড থেকে কাঁঠালবাগান হয়ে গ্রিন রোডে যাওয়ার সড়কটি একমুখী করা হবে। কাঁঠালবাগান এলাকার গাড়ি বের হবে গ্রিন রোড হয়ে। ভূতেরগলির গাড়ি গ্রিন রোডে বের হবে সেন্ট্রাল রোড হয়ে। গ্রিন রোড হয়ে সেন্ট্রাল রোডে বা কাঁঠালবাগানে প্রবেশ করা যাবে না। ভিড় কমানোর জন্য প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ এলাকা লকডাউনের আওতায় পড়লে পরে যেভাবে সিদ্ধান্ত আসবে সেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জোনভিত্তিক লকডাউনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন থেকে এখনও কিছুই জানানো হয়নি। তবে লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ প্রস্তুত আছে।