1. [email protected] : Mohiuddin Lasker : Mohiuddin Lasker
  2. [email protected] : Prodip Kumar Sarkar : Prodip Kumar Sarkar
  • E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১৩ অপরাহ্ন

জুড়ীতে কয়েক হাজার মানুষের বাঁশের সাঁকোই ভরসা ব্রীজের দাবী শুধু আশ্বাসেই

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১১৩ বার পঠিত

সাইফুল ইসলাম সুমন : মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একটি ব্রীজের অভাবে জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউপির প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোতে নদী পারাপার করছেন। উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী জুড়ী নদীর উপর ওই বাঁশের সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবছর এলাকাবাসী চাঁদা তুলে সাঁকোটি মেরামত করে কোনমতে চলাচল করেন। সাঁকোটি দিয়ে উপজেলার ২টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ যুগের পর যুগ ভূগান্তি পোয়ালেও এ যেন দেখার কেউ নেই। প্রতিটি নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নিকট থেকে ভুক্তভোগীরা ব্রীজ নির্মাণ করে দেওয়ার শুধু আশ্বাসই পায়, বাস্তবে আজও তা স্বপ্নই রয়ে গেলো।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করছেন কয়েকজন শ্রমিক। জানতে চাইলে তারা জানান, এলাকাবাসী চাঁদা তুলে এই সাঁকোটি তৈরী করেছেন। প্রতিবছরই নতুন বাঁশ দিয়ে মেরামত করতে হয়। আমরা কয়েকজন শ্রমিক ৪/৫ দিন ধরে সাঁকোটির মেরামত কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা সৌদীআরব প্রবাসী জহিরুল ইসলাম ও নয়াগ্রাম দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মনিরুল ইসলাম জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী বহু সরকার আসলেও জুড়ী নদীর উপর ওই সাঁকোর স্থানে অদ্যাবধি একটি ব্রীজ নির্মাণে কেউ উদ্যোগ নেননি। আমাদের এলাকার বাসিন্দারা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুল-মাদ্রাসায় আসা-যাওয়াসহ তাদের যাতায়াত করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে প্রতিনিয়ত এ সাঁকো দিয়ে শত শত মানুষ পারাপারের কারণে এটি বর্তমানে নাজুক হয়ে পড়েছে। যেকোন সময় ভেঙ্গে দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, বিভিন্ন পেশাজীবি লোকজনকে এ সাঁকোর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্তমানে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে এই সাঁকোটি মেরামত করাচ্ছেন। এই জায়গায় একটি ব্রীজ নির্মাণ করলে জুড়ী নদীর এপার-ওপারের কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হতো। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের আগে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা এখানে ব্রীজ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু অদ্যাবধি তা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে আজও স্বপ্নই রয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জমির আলী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত এভাবেই বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন লোকজন। এ সাঁকো দিয়ে অত্রাঞ্চলের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পড়ালেখা করতে যায়। ফলে, সন্তনদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকেন উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে হাকালুকি হাওরের শত শত কৃষকের যাতায়াতের রাস্তা এটি। এলাকাবাসী সাঁকোর স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপির নিকট জোর দাবী জানাচ্ছেন।

বিশিষ্ট সমাজসেবক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, জায়ফরনগর ইউপির নয়াগ্রাম সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জুড়ী নদীর উপর নড়বড়ে ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজন পার হন। হাকালুকি হাওরাঞ্চলের ৫/৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কৃষকরা এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করেন। উক্ত রাস্তায় বিকল্প পথ না থাকায় এ সাঁকোই একমাত্র ভরসা। তাদের আশংকা যে কোন সময় সাঁকোটি ভেঙ্গে কিংবা সেখান থেকে পড়ে গিয়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি এখানে দ্রæত একটি ব্রীজ নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি জোর দাবী জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..