1. [email protected] : Mohiuddin Lasker : Mohiuddin Lasker
  2. [email protected] : Prodip Kumar Sarkar : Prodip Kumar Sarkar

আমাদের পাবলিক লাইব্রেরীঃ ইতিকথা স্মৃতিকথা

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৫ বার পঠিত
মুজিবুর রহমান মুজিব

আমাদের মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালক দোজাহানের খালিক-মালিক সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালা ফিরিশতা জিবরাঈল (আঃ) মারফত মানবজাতির শান্তি ও মুক্তির জন্য রাসুলে খোদা হাবিব আল্লাহ মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ)’র নিকট প্রথম যে বাণিটি প্রেরণ করেন তা ছিল “ইকরা” পড়। আসমানী কিতাব কালামে পাক আল কোরআনে আল্লাহ বলেন- “ইকরা বিছমি রাব্বুকাল লাজি খালাক খালাকাল ইনসানা মিন আলাক” আদমে আওলাদ উম্মতে মোহাম্মদী (দঃ) এই মানব জাতি সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব আশরাফুল মাখলুকাত হিসাবে খ্যাত ও স্বীকৃত। মানুষের শিক্ষা জ্ঞান প্রজ্ঞা ও পান্ডিত্য পঠন পাঠন মেধা ও মনন মানুষকে এই মর্যাদা দিয়েছে। এইভাবে সনাতন ধর্মসহ সকল ধর্মেই মানবজাতির জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞানার্জনের উপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সনাতন ধর্মে সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব মানুষকে বলা হয়েছে “নররূপী নারায়ন”।

বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব সীমান্তবর্তী জনপদ বৃহত্তর সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ। সামন্ত যুগে সমগ্র বৃহত্তর সিলেট ১. লাউড়, ২. গৌড় ৩. জৈন্তা ৪. তরফ ৫. ইটা এই পাঁচটি প্রধান সীমান্ত রাজ্যে বিভক্ত ছিল।
সামন্ত যুগে সামন্ত রাজ্য রাজা, রানী রাজধানী ছাড়া ও সামন্ত শাসকদের রাজ্য পরিচালনার জন্য শিক্ষা দীক্ষা সভ্যতা সংস্কৃতি ছিল, রাজ বৈদ্যি, রাজ পুরোহিত ছাড়াও রাজ কবি, রাজ পন্ডিত ছিলেন। আধুনিক হবিগঞ্জের তরফে তরফ ঘরে ঘরে হরফ বলে একটি কথা এখনো ও
লোকমুখে প্রচলিত। সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাস ক্রমবিকাশ ও ক্রম বিবর্তনের ইতিহাস হলেও দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সমাজ প্রগতির সাথে সাথে যেভাবে সমাজ সভ্যতা কৃষ্টি সংস্কৃতির এগিয়ে যাবার বিকাশ হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। অথচ নগর সভ্যতায় বয়সের তুলনায় কলকাতা, ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে পীরানে পীর ইয়েমেনী বীর হয়রত শাহ জালালের স্মৃতি ধন্য পূণ্য ভূমি সিলেট প্রাচীন। কলকাতার বয়স যেখানে মাত্র তিনশত বৎসর ঢাকার চারশত সেখানে সিলেটের বয়স সাতশত বৎসর এর অধিক চলছে।

সোয়া সাত শত বর্ষী সিলেট উপমহাদেশীয় পাঠাগার আন্দোলন এর ক্ষেত্রে একটি বিশ্বস্থ প্রতিষ্টান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কেমুসাস সিলেট এবং একটি প্রিয় শ্রদ্ধেয় নাম মৌলভী নুরুল হক দশঘরি। বৃটিশ ভারতে দশঘরের এক মাদ্রাসা পড়–য়া তরুন সিলেটের গুনীজনদের সাহায্য সহযোগিতা ও শুভেচ্ছায় নিজের গোটা মানব জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন কেমুসাস এবং এর মুখপাত্র আল ইসলাহের খেদমতে। এখনও কেমুসাস মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে সিলেটের প্রাচীন গৌরবময় ঐতিহ্য ধারন করে।

মরমি কবি হাছন রাজার সুনাম বাহী সুনামগঞ্জের পাবলিক লাইব্রেরীটি ও প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জের সুধী সমাজ এই পাঠাগারটির নতুন নামাকরণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎ জ্যোতি দাস এর নামে। ঐতিহ্যবাহী হবিগঞ্জ জেলার পাবলিক লাইব্রেরী ও সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দনও। আশির দশকে আমাদের পাঠাগারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরী পরিদর্শনে গিয়েছিলাম অভিভূত হয়েছিলাম।
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বহু ভাষা বিদ পন্ডিত ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর মৌলভীবাজারে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পাঠাগার থাকলেও কোন পাবলিক লাইব্রেরী ছিল না। জ্ঞান চর্চা, জ্ঞানার্জনের গণায়নের প্রয়োজনে আমাদের সুযোগ্য পূর্ব সাধকগণ একটি সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্টার প্রয়োজন অনুভব করে ১৯৫৬ সালে গঠন করেন মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্টাতা সম্পাদকের গুরু দায়িত্ব গ্রহণ করেন মহকুমার বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল জালাল চৌধুরী, ইসলামী রাজনীতি ও জীবন দর্শনের অনুসারি দেওয়ানী আইনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জনাব চৌধুরী কুলাউড়া থানাধীন শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের কৃতি সন্তান হিসাবে তার পরিচিতি, পেশাগত মর্যাদা, পারিবারিক প্রভাব, প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তার সহযোগী ও শহরের তৎকালীন কতেক গ্রহ্ণানুরাগী গণ্যমান্য নাগরিক গণকে নিয়ে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর প্রাথমিক কার্যক্রম আন্তরিকতা ও নিষ্টার সাথে চালাতে থাকেন। স্থান নির্ধারিত হয় তৎকালীন জেলা পরিষদ সিলেট এর মালিকানাধীন কোর্ট রোডস্থ লাল রং এর টিনের চৌ-চালা সুন্দর বাড়ী। অপরূপ প্রাকৃতিক নৈসর্গ, গাছ গাছালি সবুজের সমারোহ, একটি গোল পুকুর একাধিক স্থাপনা সমেত সমগ্র ভূম্যাদির মালিক জেলা পরিষদ, সিলেট।
মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্টার কোন লিখিত ইতিহাস নেই। প্রতিষ্টাকালীন কমিটিতে প্রতিষ্টাতা সম্পাদক সাহেব ছাড়া আর কারা ছিলেন এমন কোন দালিলিক প্রমাণ নেই। আমাদের তখন কৈশোর কাল। তৎকালীন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার কোন সুযোগ ছিলনা। আমি কিংবা আমার কোন বন্ধু মহলের এই পাঠাগার প্রতিষ্টায় কোন সক্রিয় অবদান নেই। পাবলিক লাইব্রেরীতে যে বোর্ডটি টাঙ্গানো আছে তাতে লেখা আছে

আব্দুল জালাল চৌধুরী, এডভোকেট, ১৯৫৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর সম্পাদক ছিলেন। তার কার্যকালেই ষাটের দশকের শুরু থেকে আমাদের প্রজন্মের এই পাঠাগার ব্যবহার শুরু। এই গৃহের উত্তরাংশে একটি টিনের ঘর ছিল। যেখানে চতুর্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মচারী বিনোদন ক্লাব সাইন বোর্ডটি টাঙ্গিয়ে সরকারী কর্মচারীগণ মেস করে থাকতেন। দক্ষিনাংশে ক্ষুদ্রাকৃতির সাদা টিনের ঘর ছিল তৎকালিন র্প্বূ পাকিস্তানের প্রাচীনতম প্রেসক্লাব, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব। সমগ্র এলাকার উওরাংশব্যাপী মৌলভীবাজার ক্লাব, তৎকালিন আর্টস কাউন্সিল এবং টেনিস গ্রাউন্ড এসব এখন ও বিদ্যমান। সমগ্র এলাকার পূর্বে গির্জাপাড়া এলাকায় আমার সহপাঠী ও বিশিষ্ট বন্ধু আজিজুলহক ইকবাল এর বাসা হক ভিলা। আমার আরেক সহপাঠী ও প্রিয় বন্ধু দেওয়ান গোলাম ছরওয়ার হাদি গাজি তার মামার বাড়ি মশহুর আইনজীবী আব্দুল মোহিত চৌধুরী সাহেবের বাসায় থাকলে ও আমি ও হাদি গাজি আমাদের বাসা ছেড়ে হক ভিলায় রাত্রি যাপন করতাম। তিনজনই একপার্টি ছাত্রলীগ, এক বয়স, একই ধ্যান ধারনা, বেগুমার ভালোবাসা- গলাগলি করে একই বিছনায় রাত্রি যাপন করতাম। বিকালে পাবলিক লাইব্রেরীতে বৈকালিক আড্ডা, কবিতা পাঠের আসর, সাহিত্য বাসর নিয়মিত ছিল। ফলতঃ এলাকাটি আমার আমাদের খুব প্রিয় ছিল। সড়কের পূর্ব্বাংশে ছিল এখনও আছে সমবায় ভবন। এখান থেকে চেয়ার এনে আমরা সাহিত্য সভার কাজে ব্যবহার করতাম।
সে সময় আমরা কমিটিতে না থাকলেও আমরা পাঠাগার ব্যবহার করতাম নিজেদের সুবিধা মত। সম্পাদক হিসাবে আব্দুল জালাল চৌধুরী শ্রদ্ধাস্পদেষু আমাদেরকে ¯েœহ করিতেন। তিনি আমাদের পিতৃতুল্য গুরুজন ছিলেন। তার ভ্রাতস্পুত্র আব্দুল ওয়ালি চৌধুরী সাজমান আমার সহপাঠি ও বন্ধু ছিলেন। এখনও আছেন। আফসোস আমার বন্ধুবর আজিজুল হক ইকবাল এবং বন্ধুবর হাদি গাজী আর বেচে নেই। দু’জনেই ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমাদেরকে ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। শ্রদ্ধেয় আব্দুল জালাল চৌধুরী ও কবরবাসী। স্বাধীনতাত্তোরকালে তিনি সিলেট জেলা বারে যোগ দিয়ে সততা ও সুনামের সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে পরিণত বয়সেই তিনি পরলোক গমন করেন। আল্লাহ তাদের বেহেশত নসীব করুন। মোনাজাত করছি।
গ্রহ্ণাগার পরিচালনায় গ্রন্থাগারিকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর দীর্ঘদিনের নিবেদিত প্রাণ গ্রন্থাগারিক অত্যন্ত ¯েœহভাজন শুভাময় রায় সজল আমার দাবীর প্রেক্ষিতে পাবলিক লাইব্রেরীর ফাইলপত্র ঘেটে সম্পাদক এবং গ্রন্থাগারিকদের একটি তালিকা প্রদান করেছেন। গ্রন্থাগারিক এবং সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন খান প্রথম গ্রন্থাগারিক তিনি সিলেটের অধিবাসী। জনাব খান পাবলিক লাইব্রেরীর একটি কক্ষে স্ব-পরিবারে বসবাস করতেন। পারভিন নামে তার ছোট একটি মেয়ে ছিল। পুতুলের মতো ফুটফুটে। মেয়েটিকে আমরা পেয়েছি বিকেলে এলাকা মাতিয়ে রাখতো। জনাব খান অত্যন্ত বিনয়ী সদা লাপি ভদ্র লোক ছিলেন। স্বাধীনতাত্তোর কালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রন্থপ্রেমিক বুরহান উদ্দিন খান সিলেটে সদর বসবাস করে পেশাদার সাংবাদিকতায় সুনাম অর্জন করেছেন। অত্যন্ত উচু মানের রস রচনায় পারদর্শী জনাব খান এর প্রকাশিত গ্রন্থ ও রয়েছে। মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর সংবিধান মোতাবেক পাঠাগার পরিচালনায় সভাপতি, পদাধিকার বলে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক।অন্য সব কর্মকর্তাগণ নির্বাচিত। পাকিস্তানী আমলে বিশিষ্ট কবি ও প্রখ্যাত সিএসপি কাজী মঞ্জুরে মওলা সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে কাব্য আন্দোলন বেগবান করেছিলেন। স্বাধীনতাত্তোরকালে প্রথম এবং মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর দ্বিতীয় সম্পাদক নির্বাচিত হন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় সৈয়দ শামসুল ইসলাম। তিনি সত্যিকার অর্থে একজন গ্রহ্ণ ও গ্রন্থাগার প্রেমিক ছিলেন। তার সঙ্গে কাজ করা সম্মানজনক আরামদায়ক। আমাকে তিনি পুত্র বৎ ¯েœহ মমতা করতেন। স¯েœহে বেটা বলে সম্বোধন করতেন। তার সময়ে আমি আজীবন সদস্য হয়ে কমিটিতে একমাত্র সহ সম্পাদক নির্বাচিত হই। সে সময় এবং সব সময়ই পাঠাগার পরিচালনায় আর্থিক সংকট লেগে থাকত থাকে। কারণ পাঠাগার পরিচালনা ব্যয় এর কোন নির্ধারিত প্রয়োজনীয় আয় ছিল না। টাকা পয়সার প্রয়োজন হলে আজীবন সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালাতাম। তার পকেটে একখানি পদত্যাগ পত্র জমা থাকতো। তবুও তিনি আমাদেরকে ছেড়ে যাননি। তাঁর প্রতি আমার আরেকটি অতিরিক্ত দূর্বলতা ছিল আমার। তিনি আমার ক্লাশমেইট, এমসি কলেজে হোস্টেলে রুম মেইট বন্ধুবর সৈয়দ ফজলুল্লাহর পিতা। তিনি আমার রসুলপুর হাউসস্থ মমতাজ মেমোরিয়াল পাঠাগার এর পরিদর্শক ও পাঠক ছিলেন। প্রায়ই তিনি তার শ্রীমঙ্গল রোডস্থ বাসা থেকে পায়ে হেটে আমার বাসায় আসতেন। তাহা হাত ধরে দোয়া নিয়ে আমি ২২/০৩/১৯৮৩ ইং সালে তার পরে পাঠাগারের তৃতীয় সম্পাদক নির্বাচিত হই। একজন সমাজকর্মি হিসাবে সমাজ সেবা ও সমাজ উন্নয়নে আমার যৌবনকালে জেলা বার, প্রেসক্লাব, রেডক্রস, শিশু একাডেমি, রোটারী ক্লাব, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর ভন্টোয়ারি ষ্টোরি লাইজেগন বাবস এর সেক্রেটারী এবং কতেক সংস্থায় একাধিক মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এই সমাজ আমার সুহৃদ, শুভাকাঙ্খীগণ আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমার পেশাগত ক্ষতি স্বীকার করেও সে দায়িত্ব পালন করেছি। এখন এই পড়ন্ত বেলায় জীবন সায়াহ্নে দীর্ঘদিন যাবত জেলা জামে মসজিদের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করছি। মসজিদ ছাড়া বাকি দুনিয়াবি কাজও দায়িত্ব পালন এর মধ্যে পাঠাগার পরিচালনায় সেক্রেটারীর দায়িত্বে পালন ছিল আমার জন্য সম্মানজনক-তৃপ্তিদায়ক। এক মেয়াদে আমি সহ সভাপতি ও ছিলাম। আমার কার্যকালে ১৯৮৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় জেলা সদর ১০ ফুট পানির নীচে চলে যায়। মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী ও বন্যায় লন্ডভন্ড তছনছ বিনষ্ট হয়ে যায়। আমার বাসায় ও বন্যার সময় সাতার ছিল। আমি বন্যা উত্তরকালে আমার বাসগৃহ ও চেম্বার পরিচর্যা ফেলে পাবলিক লাইব্রেরী উদ্ধার, সাফ সফা আবর্জনা মুক্ত করতে শুরু করি। সে সময় আমার কমিটি এবং কচি কাচা খেলাঘর আসরের কোমলমতি কিশোর তরুন আমাকে আন্তরিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেন। অর্থ সংকট মোকাবিলায় চট্রগ্রাম বিভাগের তৎকালীন কমিশনার অগ্রজ প্রতিম আব্দুল মুঈদ চৌধুরীর (পরে সচিব তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সাবেক সি,এস,পি) স্মরণাপন্ন হই, পাঠাগার উন্নয় নেতার আর্থিক সহযোগিতা চাই। গ্রন্থ সুহৃদ ও মেধাবি আব্দুল মুঈদ চৌধুরী পৌর এলাকায় তাঁদের পারিবারিক বাসগৃহে বিশ্রামরত অবস্থায় বিব্রত বিরক্ত না হয়ে হৃষ্ট চিত্তে ত্রিশ হাজার টাকা অনুদান প্রাপ্তির স্বপক্ষে আদেশ প্রদান করেন। চেক সংগ্রহ করে আমরা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবে সম্পূর্ণ টাকা পাঠাগারে আপদকালীন তহবিল হিসাবে ব্যাংক এ ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখি, যা বর্তমানে লভ্যাংশ সহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হয়েছে। আমাদের গৌরব মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর প্রতিষ্টাতা সম্পাদক শ্রদ্ধেয় আব্দুল জালাল চৌধুরী এডভোকেট এর ভ্রাতষ্পুত্র মেধাবী আব্দুল মুঈদ চৌধুরীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু ও পারিবারিক কল্যান কামনা করছি।
মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর বর্তমান একতলা ভবন নির্মাণের একটি অনালোচিত অলিখিত অজানা ইতিহাস আছে। আমি সব সময় কোন প্রশাসনিক পদ পদবীতে না থাকলেও যে কোন সরকারের আমলে জনস্বার্থে জনকল্যাণ ও উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করে থাকি।
আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসক লেঃ জেনারেল হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে সামরিক সরকারকে সমর্থন জানালে সরকারের মন্ত্রীসভায় স্থান কিংবা কোন বড় ধরনের সরকারী আইন কর্মকর্তার প্রস্তাবকে আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। কারণ তা কোন জনস্বার্থের বিষয় ছিল না। আমরা তখন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে। সেনাসমর্থিত ড. ফখরুদ্দীন আহমদ এর দীর্ঘমেয়াদী তত্ত¡াবধায়ক সরকারামলেও সরকারী আইন কর্মকর্তা হওয়ার প্রস্তাব ছিল আমার কাছে। কিন্তু আমি সম্মতি দেই নি। তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ এককালে মৌলভীবাজারের জনপ্রিয় মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। তিনি সিলেটি দামান্দ ও বটেন। কড়া নিরাপত্তা ও সতকর্তার মধ্যে মৌলভীবাজারে প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের সফরের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সফরে সীমিত পরিসরে তিনি জেলার সুধীজনের সাথে সাক্ষাত মতবিনিময় করবেন। ভাষন দেবেন। আমি তখন মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। আমাদের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আলকামা সিদ্দিকী সাহেবের কাছ থেকে সভায় যোগদানের আমন্ত্রণ পেলাম। এই সফরকে কেন্দ্র করে হযরত শাহ মোস্তফা (রঃ) এর মাজার জিয়ারতে আসছেন প্রধান উপদেষ্টার পরমাতœীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ইফতেখার আহমদ চৌধুরী। জেলায় কোন ভি,আই,পি এলে ধর্মীয় বিধি বিধান ছাড়াও এটি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক রেওয়াজ। দরগা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আগত মেহমানকে স্ব-সম্মানে বরণ, সম্মান প্রদর্শন, আপ্যায়ন, জিয়ারত, মোনাজাত এর এন্তেজাম করতে হয়। আমি জেলা জামে মসজিদের সেক্রেটারির দায়িত্বে আছি। দরগা মসজিদ কিংবা পরিচালনা কমিটির কোন কর্মকর্তা না হলেও পীর আওলিয়া মাজার জিয়ারত মিলাদ এর অনুসারি একজন ছুন্নতি হিসাবে দরগাহ শরীফ এর উন্নয়ন ও খেদমতে নিজেকে নিবেদিত রাখি। দরগাহ শরীফের মুতাওয়াল্লি ভ্রাতৃ প্রতিম আলহাজ্ব সৈয়দ খলিল উল্ল্যাহ ছালিক জুনেদ ছাহিব আমাকে মোবাইল মারফত দাওয়াত দিয়ে সবিনয়ে সাহায্য সহযোগিতা চাইলেন। অসুস্থ মোতাওয়াল্লী সাহেব আমাকে অগ্রজের মত মানেন। সম্মান করেন। দরগা শরীফ ও তার জন্য আমি সে দিনের সন্ধ্যাটি বরাদ্দ রাখলাম। পদস্থ মশহুর মরহুম আমলা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সাহেব এর পরিবার সমগ্র বৃহওর সিলেটের মধ্যে একটি শিক্ষিত স¤্রান্ত নাম ডাকি পরিবার । তার সন্তানগনও উচ্চ শিক্ষিত। র্কম জীবনে সু-প্রতিষ্টিত। ডক্টর ফখর উদ্দিন আহমদ তারই জামাতা। সুপুত্র ইনাম আহমদ চৌধুরী আমার সুপরিচিত। সেদিন সন্ধ্যায় মোতাওয়াল্লি সাহেবকে নিয়ে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সুৃধীজনসহ খাসমেহমান ইফতেখার আহমদ চৌধুরীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও পুস্পিত গুভেচ্ছা জানালাম। একক বক্তাছিলাম আমি। ষাটের দশক থেকে প্রায় ষাট বৎসর ধরে বলছি লিখছিও । আমার সুহৃদ শুভাকাংখীগন মায়া করে বলেন বক্তুতায় এখনও নাকি আমি নাম্বার ওয়ান। ধর্মও দেশ প্রাসঙ্গেঁ আবেগ আপ্লুতহই। কবিতার মত হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ ঝরাই।আমার সিলেটে উন্নয়ন বিষয়ক আবেগময় ভষন মোতাওয়াল্লী সাহেবর বংশপরিচয় শুনে তার শিষ্টচার সৌজন্য বৈাধও বিনয়াচরন দৃষ্টে মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয় অভভূত হলেন বল্লেন ইনশাল্লাহ অনেক কিছুই করার আছে দোয়া করবেন । আমার পোষাক মুল্লা মুন্সির মত হলেও পেশায় আমি আইনজীবী সাংবাদিক জেলাবারের সভাপতি গুনে সুদর্শন ও স্বজ্জন ইফতেখার আহমদ চৌধরী আমার কোন প্রস্তব আছে কিনা জানতে চাইলে আমি সিলেটের জন্য স্পেশাল ইকনমিক জোন এবং মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর জন্য ভবন নির্মান এবং জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভবন ফাষ্ট ফেইজে নির্মানের দাবী জানাই। ৫৬ সালে স্থাপিত পাবলিক লাইব্রেরী ভবনটি বৃট্রিশ আমলে নির্মিত একটি টিনের ঘর এখন ভাঙ্গা চোড়া পানি পড়ে এ গ্রেড এর এই জেলায় সৈয়দ মুজতবা আলীর মৌলভীবাজারে পাঠাগার এর এমন অবস্থা থাকতে পারে না ষোল লক্ষাধিক জনগোষ্টির ভবন নির্মাণ সময়ের দাবী ।
তত্তাবধায়ক সরকার এর মাননীয় উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী আমাদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তা বাস্তবায়েনের আস্বাস প্রদান করেন। মূলত তারই আন্তরিকতায় তত্ত¡াবধায়ক সরকার আমলে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী ভবন নির্মান কাজ শুরু হয়। প্রশাসনিক পদ্ধতি এবং আমলাতান্তীক জঠিলতার কারনে এই ভবন নির্মান ও হস্থান্তরে বিলম্ব হয় তবে তা শুরু হয়ছিল সাত সালে ডক্টর ফখর উদ্দিন আহমদ এর নেতৃত্বাধীন তত্ত¡াবধায়ক সরকারমলে। ইতির্পূবে জেলা পরিষদ এর সঙ্গে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শীতল সস্পর্ক ছিল আমাদের মহকুমার আমলে আমরা যখন সিলেট জেলা পরিষদ এর অধীনে তখন একটি গনবিবেধী আমলে চক্র কতেক মোসাহেবের পরামর্শে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী বেদখল করার হীনচক্রান্ত করেছিলেন। তখন জেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধিত্ব ছিলে না প্রশাসনিক পদ্বতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়েছে। আমরা সম্মিলিতভাবে ঘোষনা করে ছিলাম আমাদের জান যাবে তবু মান দেব না লাশ পড়বে তবুও পাঠাগারের দখল ছাড়ব না। প্রশাসন বি কেন্দ্রীকরন কর্ম সূচির আওতায় মহকুমা সমূহ জেলায় রুপান্তরিত হলেও জেলা পরিষদে নির্বাচন হয়নি। জেনারেল এরশাদ সরকারামলে সরকার মনোনীত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধরী । (পরে বি.এন.পি তে যোগদান। চারদলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। বর্তমানে ঢাকাবাসী )
স্থানীয় সরকার সমূহের ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্রায়ন এর সাংবিধানিক বিধি বিধান এবং দেশের সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ দের দাবী থাকলেও বাস্তবেতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শেষ পর্য্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারামলে জেলা পরিষদে নির্বাচন পদ্ধতি চালু হলে জেলার প্রবীন রাজনীতিবিদ, সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.আজিজুর রহমান মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যোর পর জেলা চেয়ারম্যান এর পদটি শূন্য হলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামীলীগ এর সেক্রেটারি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান। ইতিপূর্বে আমার কমিটির মেয়াদ শেষে পাঠাগারের চতুর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ-সাংস্কৃতিক সংঘটক এবং গ্রহ্ণ সুহৃদ নেছার আহমদ। ৩০/১০/১৯৮৬ সালে সম্পাদকীয় দায়িত্বভার নিয়ে টানা দুই মেয়াদে কৃতিত্ব, সাফল্য, আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে রাজনীতিবিদ নেছার প্রতিভার ছাপ রাখেন। পাঠাগারের ষষ্ট ও সপ্তম সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক-সাংবাদিক আজিজুল হক ইকবাল এবং বিশিষ্ট প্রকৌশলী বলিষ্ট সমাজ সংঘটক গ্রহ্ণ সূহৃদ মনসুরুজ্জামান। লাইব্রেরীর পরিচালনা পরিষদ তিন বৎসর মেয়াদি। মেয়াদান্তে নির্বাচন ও নুতন কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। সংবিধানে গোপন ব্যেলটের মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান থাকলেও সাধারনত আলোচনা ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক নুতন কমিটি গঠিত হয় নূতন নেতৃত্বে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে দেখা গেছে ১৯৯৭ সালের পর থেকে আর ত্রিবার্ষিক নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্থান্তর হয় নি। অষ্টম সম্পাদক সদস্য সচিব হিসাবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সুলেখক অধ্যাপক আব্দুল খালিক ২৫/০৪/২০০২ সালে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, ১৬/০৭/২০০২ সালে নবম সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও আয়কর আইনজীবী ফয়জুল করিম ময়ূন। আবার ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে ছেদ পড়ে ০৫/০৬/২০০৭ সালে সদস্য সচিব হন বিশিষ্ট সাংবাদিক হুমায়ূন রশিদ। ২৮/১১/২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির একাদশ সম্পাদক নির্বাচিত হন শিষ্ট সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মুহিব। ঐ সাল এর পর থেকে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর আর সাংঘটনিক কার্য্যক্রম নেই। একটি স্থবির ও নৈরাশ্য দেখা দেয় পাঠাগার পরিচালনায়। পাঠাগার কেন্দ্রীক জ্ঞানচর্চা ও মুক্ত বুদ্ধির আন্দোলন ইতিপূর্বেই মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। জেলা প্রশাসক-সভাপতি সাহেবদের সঙ্গেঁ কমিটির কর্তাদের সমন্বয় হীনতার কারনে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির অস্থিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়। কর্মচারিদের বেতন ভাতা, পত্রিকা বিদ্যুৎ বিল অনাদায়ি। গ্রহ্ণ অন্ত প্রাণ শ্রী শোভাময় রায় ১৯৮৫ সাল থেকে নাম মাত্র ভাতায় গ্রহ্ণাগারিকের গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিষ্ঠাতা গ্রহ্ণাগারিক বোরহান উদ্দিন খান সাহেবের বিদায় এরপর গোলাম রহমান চৌধুরী সাহেব দীর্ঘদিন আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। পাঠাগার এর নিকট প্রতিবেশী একটি শিক্ষিত ও সম্ভান্ত পরিবারের সন্তান শ্রীমান শোভাময় রায় পাঠাগাারটি রক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দোয়ারে ধর্না দিতে দিতে একদিন মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী বন্ধই হয়ে গেল। ১৯৫৬ সালে আমাদের সুযোগ্য পূর্ব সাধক পৌর বাসিকে নিয়ে সিলেট জেলা পরিষদের মালিকানাধীন এই ভাঙ্গাঁ টিনের ঘরে শিক্ষা ও জ্ঞানের যে বাতি জ্বালিয়ে ছিলেন এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভাঙ্গাঁ টিনের ঘর কোটি টাকার দালান হলেও অন্ধকার হয়ে গেল, দরজা জানালা খোলার আলো জ্বালাবার কোথাও কেউ নেই। দায়িত্ব বান গ্রহ্ণাগারিক শোভাময় রায় দরজায় একটি তালা লাগিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় আমরা বিষয়টি অনতি বিলম্বে সুরাহা এবং পাঠাগার এর অস্থিত্ব রক্ষার জন্য জেলা সদরের সংসদ সদস্য এই লাইব্রেরীর একাধিক মেয়াদে সাবেক সফল সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি গ্রহ্ণ প্রেমিকছার আহমদ সাহেবের স্মরনাপন্ন হই। তিনি কমিটির কোন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা না হলেও জেলা সদরের মাননীয় সাংসদ হিসাবে বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সভা আহŸান এর ব্যবস্থা গ্রহনের দায়িত্ব নিলেন। সংস্থার সভা ডাকার মালিক সভাপতি সম্পাদক। জেলা প্রশাসক সভাপতি সাহেব সম্মতি ও তারিখ না দিলে সম্পাদক সাহেব সভা ডাকতে পারেন না। মূলত পুস্তক প্রেমিক নেছার আহমদ এম.পি. সাহেব এর আন্তরিক উদ্যোগ ও বলিষ্ট নেতৃত্বে সাধারন সভা আহŸান করা হল। বেগম নাজিয়া শিরিন তখন মৌলভীবাজার এর জেলা প্রশাসক।
পৌর ও জেলাবাসি এখনও হৃদয়বান, উন্নত নৈতিকতার অধিকারী। পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারন সভায় অসাধারন সাড়া পাওয়া গেল। সেদিন সন্ধাটি ছিল স্থানীয়
মুজতবা আলী মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ। একটি সফল সাধারণ সভা হল। আজীবন ও সাধারন সদস্যগন আলোচনায় অংশ গ্রহণ করলেন, মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীকে ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সবাই অঙ্গীঁকার করলেন। আর্থীক-কায়িক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। সাধারন সবার প্রাণ-প্রধান আকর্ষন ও মেহমান সাংসদ নেছার আহমদ নিজ উদ্যোগে তাৎক্ষনিক ভাবে বেশকিছু আজীবন, সদস্য করালেন, এককালীন অর্থ উঠিয়ে দিলেন। সাবেক সম্পাদক প্রবীন লেখক এবং উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে প্রবীনতম নাগরিক হিসাবে আমি আবেগময় ভাষন দিলাম, আগামী কমিটিতে নির্ব্বাহী সদস্য না হয়েও সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিলাম। অন্তবর্ত্তী কালীন সময়ের জন্য একটি এডহক কমিটি একজন সদস্য সচিব নির্বাচনের প্রস্তাব দিলাম। সাংসদ নেছার আহমদ এর প্রস্তাবে আমার সমর্থনে সর্ব সম্মতি ক্রমে সদস্য সচিব হলেন কবি, আইন জীবী মানবাধিকার সংঘটক ও সম্পাদক কিশোরী পদ দেব শ্যামল। আমি ছাড়া কতেক সদস্য নিয়ে একটি এড হক কমিটি গঠিত হলে। সাংবিধানিক বিধি বিধান মোতাবেক নব্বই দিনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন এই এড হক কমিটি। নুতন সদস্য সংগ্রহ অভিযানও চলবে। আশির দশকে এই পাঠাগারের সেক্রেটারি থাকা কালে জাতীয় গ্রহ্ণ কেন্দ্র বাংলাদেশের পাবলিক লাইব্রেরী সমূহের সম্পাদকদের জন্য একটি সেক্রেটারিয়েল ট্রেনিং কোর্স এর আয়োজন করেন। এখনও যা মনে পড়ে কেন্দ্রের পরিচালক ফজলে রাব্বী সাহেবই ছিলেন এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা। তখন ভরা যৌবন কাল। রূগবালাই নাই। শুধু কাজ আর কাজ। পেশাগত লাভ ক্ষতির কথা কোন কালেই চিন্তা করি নাই। আমাদের পাঠাগারের পক্ষ থেকে নিজ খরছায় আমি সেকোর্সে যোগ দেই। এখনও যা মনে পড়ছে প্রশিক্ষনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাঠাগারকে পাঠকদের আকর্ষনীয় করে তোলা, পাঠাগরকে সত্যিকার অর্থে একটি মাস কমিউনিকেশন সেন্টার হিসাবে গড়ে তুলা। উদ্যোক্তাগণ প্রশিক্ষণার্থীগণকে হাতে কলমে শিক্ষা প্রদানের জন্য আমাদেরকে কতেক পুস্তক ও শিক্ষা কেন্দ্রীক স্থানে নিয়ে যান। চল্লিশ বৎসর পর আমার এখনও মনে আছে আমাদেরকে মুক্ত ধারা ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আব্দুল্লা আবু সাঈদ পরিচালিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র পুস্তক-পাঠাগার-জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে একটি বিস্ময়কর প্রতিষ্ঠান বটে। বাংলা মোটর এলাকায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পাঠাগার দেখার-শেখার ব্যাপারই বটে। আলোকিত মানুষ গড়ার আলোকে আব্দুল্লা আবু সাঈদ পরিচালিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমান পাঠাগার এখনও আলোর সন্ধান করছে। শ্যামল কমিটি গঠিত হওয়ার পর আমরা প্রায় হর রোজ হর সন্ধ্যায় মুজতবা আলী মিলনয়তনে প্রকাশনা উৎসব সাহিত্য সভা-কবিতা পাঠ সুধী সমাবেশের মাধ্যমে প্রানের মেলা বসাই। ব্যস্ত আইনজীবী এবং হৃদরুগী কিশোরীপদ দেব শ্যামল কাজে কর্মে কথায় কবিতায় এখনও চীর কিশোর-চীর সবুজ। আমার মত নির্বাহী কমিটিতে সদস্য না হয়েও আমাদের সঙ্গেঁ মুক্ত বুদ্ধির এ আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে শরীক হলেন জেলা লেখক ফোরামের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাংকার ডক্টর মোহাম্মদ আবু তাহের। সন্ধ্যায় আমি চেম্বারে বসি না, চেম্বার প্রেকটিশ করিনা, বয়স কালের মত বারোয়াড়িও বারো বাজারি আড্ডাও মারি না, কাজেই মসজিদ ও পাঠাগারই আমার এখনকার বিচরন ক্ষেত্র। আমরা গোল পুকুরে মাছের পোনা ছাড়লাম। খালি জায়গা সমূহে ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়ে বিবর্ণ ভূবনকে সবুজাভ করে তুল্লাম।
ইতিমধ্যে মৌলভীবাজারে মীর নাহিদ আহসান সাহেব নূতন জেলা প্রশাসক হিসাবে যোগদান করেছেন। তাঁর আন্তরিকতা, কর্ম চাঞ্চল্য, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ সকল মহলে প্রশংসিত হলে, প্রশাসন ও জনমনে একটি প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এলো। সদস্য সচিব কিশোরীপদ দেব আমাদের নবাগত সভাপতি মহোদয় এর সঙ্গেঁ সাক্ষাত করে পাঠাগারের সাধারন সভার জন্য তারিখ ও সময় চাইতেই পেলেন। মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীতে আবার প্রাণের স্পন্দন ফিরে এল, জীবনের জয়গান ধ্বনিত হল। শোভাময় রায় সজলের মুখে আবার মায়াবি মিষ্টি হাসি দেখা গেল। অবশ্য ইতিপূর্বে কতেক নয়া যোগি, নব্য হাইব্রীড পাঠাগার পরিচালনা নিয়ে নেতিবাচক বিরুপ মন্তব্য করছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ এবং মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে মজা দেখার ও নেতাগিরি দেখাবার পায়তারা করছিলেন কিন্তু মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ এর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান একজন দায়িত্ববান ও জন সচেতন জন প্রতিনিধি হিসাবে মনে করলেন জেলা পরিষদ ও পাবলিক লাইব্রেরী দুটিই এ জেলা বাসির-আমাদের প্রতিষ্ঠান। এই দুই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে-বাঁচিয়ে ভালোভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তিনি স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই ঘোষনা করলেন তাঁর কার্য্য কালে পাবলিক লাইব্রেরী জেলা পরিষদ থেকে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা পাবে।
মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীতে মুজতবা আলী মিলনায়তনে স্থানীয় সাংসদ সহজ সরল সাদা মনের মানুষ এমপি নেছার আহমদ এর প্রধান আতিথ্যে সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এর সভাপতিত্বে সে দিন সন্ধ্যায় পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারন সভায় আবার মুক্ত বুদ্ধির বীর সৈনিক পুস্তক প্রেমিকদের মিলন মেলা বসল। বিদায়ী শ্যামল কমিটিকে সবাই ধন্যবাদ দিলেন, যেখানে ইতিপূর্বে বছরের পর বছর কমিটি কিংবা সাধারন-কোন সভাই হয়নি, সেখানে সাংবিধানিক বিধি বিধানের মধ্যে ভয়াবহ বৈশ্বিক ব্যাধি করনাক্রান্তির মাঝে ও এই সভা আহŸান, বিদ্যমান সংকট সমাধান-একটি সৌহার্দ পূর্ণ পরিবেশ পুনরুদ্দার একটি প্রশংসনীয় কাজ। মুক্ত আলোচনায় আলোচক গণ জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ত্তমান ভবনটিকে একটি বহুতল ভবন, গবেষনা কেন্দ্র স্থাপনের আহŸান জানান। সভায় আলোচনা ক্রমে সর্ব সম্মত ভাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে পদাধিকার বলে পাবলিক লাইব্রেরী পরিচালনা পরিষদের সিনিওর সহ সভাপতি নিযুক্তির পক্ষে অভিমত প্রদান করতঃ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভা একটি পূর্নাঙ্গঁ কমিটি প্রদানের জন্য সাংসদ নেছার আহমদকে দায়িত্ব প্রদান করলে তিনি তাঁকে সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান, সাবেক সম্পাদক প্রবীন লেখক মুজিবুর রহমান মুজিব এবং বর্ত্তমান সদস্য সচিব কিশোরী পদ দেব শ্যামলের নাম প্রস্তাব করলে সভা আনন্দ প্রকাশ করে ঐক্যমত পোষন করেন। সাংসদ নেছার আহমদ একটি স্বতন্ত্র কক্ষে তাৎক্ষনিক সভায় বসে মত বিনিময় করতঃ সকলের মতামত নিয়ে ঐক্য মতের ভিত্তিতে একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। পূর্নাঙ্গ সেক্রেটারি হিসাবে অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সু-লেখক অধ্যাপক আব্দুল খালিককে নির্বাচিত করা হয়।

এই প্রথম বারের মত কমিটিতে দুইজন মহিলা সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়। সকল মত পথ বিভিন্ন কর্ম পেশার গুনীজনকে নিয়ে একটি সার্বজনীন কমিটি উপহার দিয়ে নেছার আহমদ এম, পি ঔদার্য্যরে পরিচয় দিয়েছেন, এটি একটি সার্বজনীন পাঠাগার বিধায় রাজনৈতিক সংকীর্ণতার উর্ধ্বে থেকেছেন-প্রশংসিত হয়েছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ, একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠনে, মুক্ত বুদ্ধির চর্চায় পঠন-পাঠন পাঠাগার আন্দোলনের বিকল্প নাই। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রয়োজনে আসুন আমরা মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী টিকিয়ে-বাঁচিয়ে রাখি। অধিকতর সম্বৃদ্ধ করি। নবাগত নির্হাহী কমিটিকে অভিনন্দন শুভেচ্ছা সহ শর্তহীন সহযোগিতার অঙ্গীকার সহ শুভকামনা।
[ষাটের দশকের সাংবাদিক গ্রহ্ণ সুহৃদ। বহু গ্রণ প্রনেতা। মুক্তিযোদ্ধা। সাবেক সভাপতি মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব। সাবেক সম্পাদক, মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরী]

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..