1. [email protected] : Mohiuddin Lasker : Mohiuddin Lasker
  2. [email protected] : Prodip Kumar Sarkar : Prodip Kumar Sarkar
  • E-paper
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১০ অপরাহ্ন

সিলেটের সাবেক কমিশনার শফিকুল দম্পতির ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১
  • ১১৮ বার পঠিত

 অনলাইন ডেস্ক: সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট’র সাবেক কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মাহবুবা ইসলাম ৫ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৪ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। দুর্নীতির মাধ্যমে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ শফিকুল ইসলাম এই সম্পদ গড়ে তোলেন। পুত্রের নামে কিনেন ৮৬৮ দশমিক ৫ শতক জমি। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের দেয়া পৃথক অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে শফিকের এই অবৈধ সম্পদের এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সিলেটের মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে শফিক ও তার স্ত্রী মাহবুবা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। আসামী শফিকুল ইসলাম বর্তমানে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা-১ এর কমিশনার পদে কর্মরত রয়েছেন। দুদক সিলেট জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ নুর- ই- আলম জানিয়েছেন, শফিকুল ইসলাম অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত এই সম্পদ অর্জন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগপত্র দেয়া হয়। তার দুর্নীতির সকল ফিরিস্তিও অভিযোগপত্রে রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের সাবেক কমিশনার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পরই তদন্তে নামে দুদক। এক পর্যায়ে দুদক তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে নোটিশ দেয়। দুদকের নোটিশ পেয়ে ২০১৮ সালের ২৮ জুন শফিক ও তার স্ত্রী মাহবুবা ইসলাম দুদক সিলেট জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। এতে অসঙ্গতি থাকায় দুদক পুরো বিবরণী খতিয়ে দেখে। এতে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে গত বছরের ২০ জানুয়ারি দুদক সিলেট জেলা কার্যালয়ে মামলা করা হয়। মামলা নং ০১ ও মামলা নং ০২। প্রায় ১৩ মাসের তদন্ত শেষে গত সোমবার ও মঙ্গলবার সিলেটের মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৮ জুন দুদকে দায়েরকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার স্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন শফিক। তদন্তে দেখা যায়, শফিক নিজ নামে, ছেলে-মেয়েসহ ৫২ লাখ ৯৬ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। এক্ষেত্রে তিনি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ গোপন করেন। তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৭ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তদন্তে শফিক, তার ছেলে- মেয়ের নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭১ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে তিনি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেন। তিনি ৭১ লাখ ৬৪ হাজার ২১৫ টাকার অর্জিত সম্পদ গোপন করেন। তার উপার্জিত টাকা দ্বারা নিজ নামে ও সন্তানদের নামে ৫২ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩৩ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ১ কোটি ৫১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭২ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ ২ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬৭২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

তদন্তে দেখা যায়, তিনি পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে ৩২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১২ টাকা খরচ করেছেন। তদন্তে তার নামে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার ১৯০ টাকা। সকল রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনায় তার নিজ নামে অর্জিত সম্পদের মোট পরিমাণ পাওয়া যায় ১ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার ১২৫ টাকা। তিনি ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস দাখিল করতে ব্যর্থ হন। পর্যালোচনায় দেখা যায়, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি গোপন রেখে পুত্রের নামে ৮৬৮ দশমিক ৫ শতক জমি ক্রয় করেন। এর ফলে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কাস্টমস কমিশনার শফিকের স্ত্রী মাহবুবা ইসলাম ২০১৮ সালের ৬ জুন সম্পদ বিবরণী দুদকে জমা দেন। এতে তিনি ১ কোটি ১০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তদন্তে তার নিজ নামে ১ কোটি ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ৭০৬ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে তিনি ৮১ লাখ ২৩ হাজার ৭০৬ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন। তিনি সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ১১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তদন্তকালে ২ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪১২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এতে তিনি ১৫ লাখ ১৪ হাজার ২৯৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন। তিনি দাখিলকৃত বিবরণীতে ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯৯ টাকার সম্পদ গোপন করেন।

অভিযুক্ত কাস্টমস কমিশনার শফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের স্টেশন রোডের (তারাপাশা) নিকলী ভবনের নবী হোসেনের পুত্র। বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকার বনানীর কে ব্লকের ২২ নং রোডের ১৭৪ নং হাউজে (ফ্ল্যাট নং ১৭/৪) বসবাস করছেন। মাহবুবা ইসলাম কাস্টমস কমিশনার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার পদে তিনি যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এমন অভিযোগের পর দুদকের তদন্ত চলাকালেই ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর তাকে সিলেট থেকে একই পদে ঢাকায় বদলি করা হয়।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাহবুবা ইসলাম নিজ নামে স্থাবর ও অস্থাবরসহ মোট ৪ কোটি ২২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৮ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে ১৪ লাখ ৭ হাজার ১৫১ টাকা খরচ করেন। তার নামে অর্জিত সম্পদের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ২৬৯ টাকা। রেকর্ডপত্র ও প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায় বৈধভাবে তার আয়ের উৎসের পরিমাণ ৩১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। তিনি ৪ কোটি ৪ লাখ ৮১ হাজার ২৬৯ টাকার সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস দাখিল করতে ব্যর্থ হন। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি গোপন রেখে ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস ক্রয়ের জন্যে ডেভেলাপার কোম্পানিকে বিভিন্ন মানি রিসিটে প্রদত্ত টাকার পরিমাণ গোপন করেন। তিনিও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..